কর্মস্হলে মানসিক স্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার দেয়ার এখনই সময়

  1. কর্মস্হলে মানসিক স্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার দেয়ার এখনই সম
    ….

“কর্মই ধর্ম, কর্মই জীবন,আর কর্মেই মুক্তি”। আর কর্ম এবং কর্মস্হল
-সম্পর্কিত চাপ বিশ্বজুড়ে একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা; যা কেবল কর্মীদের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতাকেই প্রভাবিত করে না, সংস্থাগুলির উৎপাদনশীলতাকেও  প্রভাবিত করে।
কর্ম আমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনে, জীবনকে অর্থবহ করে ,জীবন গঠন এবং উদ্দেশ্য সাধনে সহয়তা করে,আত্ম পরিচয়ের অনুভূতি প্রদান করে,আত্মসম্মানকে শক্তিশালী করে, এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অবস্থান তৈরী করতে সহয়তা করে। পক্ষান্তরে, একটি নেতিবাচক কর্ম পরিবেশে কাজ করলে তা  বিপরীত প্রভাব ও ফেলতে পারে; যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একটি বিশাল বোঝা হয়ে উঠতে পারে।মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তিটি অন্যের জন্য কেবল নয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য ও হুমকিস্বরূপ হতে পারে।তাই কর্মস্হলের মানসিক  চাপ কমাতে এখনই প্রয়োজন কর্মস্হলের মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়া।সেই প্রাসঙ্গিকতা থেকে কি কি কারণে কর্মস্হলে মানসিক চাপ তৈরী হয় এবং কিভাবে তা মোকাবিলা করা যায় প্রথমত এবং সর্বোপরি এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরী করতে হবে।

কর্মস্হলে মানসিক চাপ তৈরীর সম্ভাব্য কারণসমূহ :
• কাজের চাহিদা যদি ব্যক্তির সামর্থ্য এবং ব্যবস্হাপনার  সক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে এই চাপ তৈরী হতে পারে।

•  সহকর্মী বা কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বন্দ্ব, ক্রমাগত পরিবর্তন এবং কর্মস্হলে  নিরাপত্তাহীনতা, হয়রানি, হুমকি, কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমুলক আচরণ ও কর্মীদের মানবিক ও মৌলিক  অধিকার নিশ্চিতকরণে উদাসীনতা, সহমর্মীতার অভাব, যোগ্যতার ভিত্তিতে  মুল্যায়ন না করা,প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি, ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় এর সাথে  সম্পৃক্ত।

•  তাছাড়া, ব্যক্তি কাজ-সম্পর্কিত চাপ অনুভব করবেন কিনা তা নির্ভর করে কাজের ধরণ, ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক গঠন, ব্যক্তিগত জীবন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর।দীর্ঘ সময় ধরে কাজ, কম স্টাফ, সহযোগীতার অভাব, সরন্জামের অভাব, কাজ এবং ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে কোন স্পষ্ট সীমারেখা না থাকা, প্রশিক্ষণ বা নির্দেশনার অভাব, লক্ষ্য বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে ব্যবস্থাপকের সাথে সুস্পস্ট  যোগাযোগের অভাব, মানসিক চাপের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বিভিন্ন প্রকার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরী করতে পারে।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রভাব:মানসিক চাপ অতিমাত্রায় বেড়ে গেলে আমাদের সকলেরই কর্মক্ষেত্রে খারাপ দিন যায়, তখন  কিছুই ঠিকঠাক যায় না।
কাজে মনোযোগ দিতে  অসুবিধা হয়, মেজাজ  খিটখিটে হয়, সবচেয়ে মৌলিক কাজটি সম্পন্ন করার জন্য শক্তি এবং অনুপ্রেরণার অভাব বোধ হয়।আর যদি সেটি দিনের পর দিন  অনুভুত হয়, তখন বিভিন্ন প্রকার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরী করতে পারে।আবার
কখনো কখনো কর্মক্ষেত্রে অস্থির, উদ্বিগ্ন এবং হতাশ বোধ করতে করতে  ব্যক্তি এতটাই অভ্যস্ত হতে পারে যে এটিকে সে  “স্বাভাবিক” মনে করা শুরু করতে পারে, যা পরবর্তীতে গুরুতর মানসিক রোগ তৈরী করতে পারে।
তাই সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে তার সমাধান মিলবে না,
এটি সময়ের সাথে সাথে আরও খারাপ হয়ে যাবে, যা ব্যক্তিকে অসুস্থতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে, বার্নআউটের কারণ হবে এবং কাজের পারফরম্যান্স, সম্পর্ক এবং ঘরোয়া জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

কাজের সাথে সম্পর্কিত মানসিক চাপ মোকাবেলায় করণীয়:
অল্পবিস্তর চাপ কাজের গতিকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভুমিকা রাখে। কিন্তু যখন এই চাপ অতিরিক্ত মাত্রায় হয়, তখন তা সমাধানের পথ খুঁজতে হয়। ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা-সমাধানের দক্ষতা ব্যবহার করে, কার্যকরভাবে এ চাপ মোকাবিলা করে, কাজের সুস্হ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়।তাই মানসিক চাপের  উৎস চিহ্নিত করা, সেগুলো মোকাবিলা করার কৌশল খুঁজে বের করে তার বাস্তবসম্মত  সমাধান করার প্রয়াস চালাতে হবে। সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরী করার সমাজিক দক্ষতা তৈরী করতে হবে , একটি গুরুতর সমস্যা সমাধান করতে ব্যক্তির রেজিলিয়েন্স বা প্রতিকুল  পরিবেশে ঘুরে দাঁড়ানোর দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।তাছাড়া, ব্যক্তিকে সুস্হ জীবনধারা অর্জন করতে হবে। নিয়মিত রিলাক্সেশন, মেডিটেশন, শারীরিক ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান করা, পর্যাপ্ত ও পরিমিত ঘুম নিশ্চিত করা, চা/ কফি/মাদক ও  মদ্যপান এবং অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ থেকে বিরত থাকা, ইত্যাদি মানসিক স্বাস্থ্যের সহায়ক নিয়ম কানুন গুলো মেনে চলতে হবে। মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।এক্ষেত্রে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র – প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। “I put my heart and my soul into my work, and have lost my mind in the process”-
ভিনসেন্ট ভেন গগ এর মতো এভাবে কাজে মনোনিবেশ করা তখনই সম্ভব, যখন কর্মস্হলের পরিবেশ মানসিক স্বাস্হ্যের অনুকুলে থাকে।আর এটি নিশ্চিত করতে কর্মস্হলে মানসিক স্বাস্থ্য কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, এবং তা হতে হবে এখনই।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ ব্লগ

  • All Posts
  • Behavior Activity Therapy
  • Uncategorized
  • অটিজম-autism
  • কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার
  • গ্যালারি ( ফ্রন্ট)
  • নোটিশ (ফ্রন্ট)
  • পরিচিতি
  • ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি-(PMRH)
  • বিষন্নতা রোগ
  • মাইগ্রেশন সাইকিয়াট্রি
  • মিডিয়া
  • শিশু মনোরোগ

Categories

ব্লগ

ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি (PMRH)

টেলি-সাইকিয়াট্রি

বার্ধক্যকালীন মানসিক সমস্যা

মাইগ্রেশন সাইকিয়াট্রি

Dr Saifun Sumi© 2024 Developed by ClixorBD

Scroll to Top