প্যানিক অ্যাটাক সংক্রান্ত কিছু ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্য
প্যানিক অ্যাটাক হল তীব্র ভয় এবং উদ্বেগের একটি সমন্বয় যার সাথে শারীরিক বিভিন্ন লক্ষণ থাকে, যেমন: হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, শ্বাসবন্ধ লাগা, বুকে চাপ অনুভব করা, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা এবং ঘাম হওয়া। আক্রান্ত ব্যক্তির মনে হয় এই বুঝি মারা যাচ্ছি, হয়তো হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, হয়তো ষ্ট্রোক করেছি, ইত্যাদি।
মিথ নম্বর ১: প্যানিক অ্যাটাক হওয়া মানেই প্যানিক ডিসঅর্ডার আছে।
সঠিক ধারণা:
প্যানিক অ্যাটাক হল বেশ কিছু মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধির একটি উপসর্গ।প্যানিক অ্যাটাক কোন ডিসঅর্ডার নয়, বরং প্যানিক ডিসঅর্ডার হল প্যানিক অ্যাটাক এর সাথে যুক্ত ব্যাধিগুলির মধ্যে একটি।
মিথ নম্বর ২: প্যানিক অ্যাটাক একটি মানসিক ব্যাধির দিকে পরিচালিত করে।
সঠিক ধারণাঃ
প্যানিক এটাকের সাথে একটি ভয় রয়েছে যে সেগুলি অবশ্যই আরও গুরুতর কিছুর ইঙ্গিত দেয় এবং এটি সাহায্য করে না যে প্যানিক আক্রমণের সময় কিছু লোক ডিপারসোনালাইজেশন এবং ডিরিয়েলাইজেশন অনুভব করে। এমনকি কারও কারও কখনও কখনও শ্রবণ এবং দৃষ্টিবিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন ও থাকে। সাইকোসিস এর সাথে ও প্যানিক অ্যাটাক থাকতে পারে। প্যানিক অ্যাটাক কোনো ধরনের সাইকোটিক ডিসঅর্ডারের দিকে পরিচালিত করে না, তবে কখনও কখনও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ একই সময়ে দেখা দিতে পারে।
মিথ নম্বর ৩: ট্রিগার এড়িয়ে প্যানিক অ্যাটাক এড়ানো যায়।
সঠিক ধারণাঃ
এটি কিছুটা জটিল মিথ।
কারণ সামাজিক উদ্বেগজনিত ব্যাধির সাথে থাকা ট্রিগার এড়িয়ে কিছু প্যানিক অ্যাটাক কেউ কেউ এড়াতে পারে, কিন্তু প্যানিক ডিসঅর্ডারের সাথে প্যানিক অ্যাটাকগুলি অপ্রত্যাশিত এবং কোনও বাস্তব ট্রিগার নেই। ট্রিগার আরেকটি প্যানিক আক্রমণ সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।এই মিথটি ততটা পরিষ্কার নয়।তাছাড়া, ট্রিগার এড়িয়ে চলা প্রায়ই কারো জীবনকে সীমাবদ্ধ করে এবং আরও বেশি ক্রিয়াকলাপ বন্ধ করে দেয়।
মিথ নাম্বার ৪ঃ প্যানিক অ্যাটাক কারো নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
সঠিক ধারণাঃ
সাধারণত, প্যানিক অ্যাটাকগুলি কাউকে আক্রমণাত্মক বা হিংস্র হতে দেয় না বা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ হারায় না।
মিথ নাম্বার ৫ঃ প্যানিক অ্যাটাক হলে কেউ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে বা ঘর হতে বেরিয়ে যেতে পারে।
সঠিক ধারণাঃ
এটা খুব কমই হয়।
সাধারণত, প্যানিক অ্যাটাক হলে অন্য লক্ষণগুলো বেশী হয়।
মিথ নম্বর ৬ঃ প্যানিক অ্যাটাক কয়েক ঘন্টা স্থায়ী হতে পারে।
সঠিক ধারণাঃ
সাধারণত, আমরা দেখি আতঙ্কিত আক্রমণগুলি প্রায় পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে তাদের শীর্ষে পৌঁছে যায় এবং তারপরে তা কমতে শুরু করে।