১) শিশু সন্তানের সাথে সংযোগ তৈরী করতে হবে:
শিশুরা জৈব রাসায়নিক স্তরে অন্যের সাথে সংযোগ স্হাপনে শক্তিশালী।
এ সংযোগ প্রথমে তাদের নিকটবর্তী পরিবারের সাথে এবং তারপর চারপাশের বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সাথে ঘটে।যদি সেই সংযোগটি না ঘটে, তবে মস্তিষ্কের যথাযথ বিকাশ নাও হতে পারে।
যখন একটি নিরাপদ সংযুক্তি তৈরি হয়, তখন শিশু নিরাপদ বোধ করে।গবেষণা তথ্য দেয় যে, শিশুরা তাদের জীবনের প্রাথমিক বছরগুলিতে নিরাপদ সংযুক্তি তৈরী করতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী জীবনে তাদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের আচরণগত সমস্যা এবং সম্পর্কজনিত জটিলতা তৈরী হতে পারে।
২) শিশু সন্তানকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে:
মানুষ হিসাবে, শিশুরা একই বিবেচনার দাবি রাখে যা আমরা বড়দের ক্ষেত্রে সমর্থন করি।
শিশুদের সাথে চিন্তাশীল, সুশীল এবং সৌজন্যমূলক আচরণ করা জরুরী, যেমন আমরা অন্য বয়সীদের সাথে করি।
গবেষণায় দেখা গেছে যে বাচ্চাদের স্নেহশীল, লালন-পালনকারী পিতামাতারা একটি বড় হিপ্পোক্যাম্পাস তৈরি করে, যা আরও ভাল স্মৃতিশক্তি, শেখার এবং মানসিক চাপের সময় যথাযথ প্রতিক্রিয়া বাড়ায়। অতএব, যখন আমরা শিশুদের লালন-পালন করি এবং ইতিবাচক হই, তখন আমরা শিশুর মনকে সম্মান করি।
যখন আমরা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যথা না দেওয়ার জন্য তাকে আঘাত না করা বেছে নিই, তখন আমরা একটি শিশুর দেহ এবং মর্যাদাকে সম্মান করি।
আমরা তার ব্যক্তিত্বকে সম্মান করি, যখন আমরা তাকে তার নিজস্ব গতিতে অন্বেষণ এবং বিকাশ করার জন্য সুযোগ দিই।
আমরা তার আত্মাকে সম্মান করি, যখন স্বীকার করি যে প্রতিটি শিশু তার নিজস্ব অনন্য চেতনা নিয়ে আসে, যাকে সম্মান করতে হবে।
৩. শিশুদের সক্রিয় প্যারেন্টিং করতে হবে: সক্রিয় পিতামাতারা একটি সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই, প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণ দেখেই সম্ভাব্য সমস্যাজনিত আচরণ সনাক্ত করতে এবং সমাধান করতে পারেন এবং করেন। সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়ে, শিক্ষা দিয়ে, আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে উদ্ভূত অনেক সমস্যাকে শুরুতেই শেষ করে দিতে পারি।প্রোঅ্যাকটিভ প্যারেন্টিং বা সক্রিয় সন্তান প্রতিপালনের অর্থ হল পিতামাতারা তাদের সন্তানদের আচরণে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সাড়া দেন। এর জন্য একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপের পাশাপাশি কীভাবে সাড়া দেবেন সে সম্পর্কে পূর্বধারণা থাকা প্রয়োজন। যেখানে প্রতিক্রিয়াশীল পিতামাতারা আবেগপ্রবণভাবে কাজ করেন, সাড়াপ্রদানকারী পিতামাতারা সেখানে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তাদের পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে সক্ষম হন।
৪). শিশুসন্তাকে সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে : এক্ষেত্রে পিতামাতা সন্তানের সবকিছু মেনে নেবেন, তাহলে তারা ইতিবাচক পিতামাতা থাকবেন, বিষয়টি এমন নয়।পিতামাতাই তাদের শিশুসন্তানের সবকিছুর নেতৃত্ব দেবেন, পথপ্রদর্শক হবেন, কিন্তু একটু ভিন্নভাবে।
প্রকৃতপক্ষে, এই বড়, নতুন পৃথিবীতে তাদের যাত্রাপথে তাদের পথপ্রদর্শনের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব না থাকা শিশুদের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব দেওয়ার অর্থ হল পিতামাতা তাদের নির্ধারিত সীমানার ভেতরে থেকে, তাদের সন্তানের সাথে এমনভাবে সম্পর্ক স্হাপন করবেন, এমনভাবে আচরণ করবেন, যেন শিশুরা বুঝতে পারে যে তাদের পিতামাতা তাদেরকে শুনছেন, তাদেরকে বুঝতে পারছেন।এতে শিশুদের আত্মবিশ্বাস তৈরী হবে, তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে পারবে, যা তাদের জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে, বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে। তাছাড়া, এতে পিতামাতার উপর তারা ভরসা করতে পারবে, বিশ্বাস স্হাপন করতে পারবে, যা পিতামাতার সাথে তাদের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।